ইসলামের (অ)প্রাসঙ্গিকতা

ইসলাম কি প্রাসঙ্গিক? আমার জীবনের সাথে ইসলাম কতটা প্রাসঙ্গিক?

কিছুদিন আগে এরকম কিছু প্রশ্ন করা হয়েছিল আমাকে। প্রথমে উত্তরটা দিতে চেয়েছিলাম এভাবে: ইসলাম মানুষের জীবনকে একটা উদ্দেশ্য দেয়। কিন্তু পৃথিবীর নাস্তিক্যবাদী, বস্তুবাদী আদর্শগুলো মানুষকে বেঁচে থাকার কোনো অর্থপূর্ণ উদ্দেশ্য দেয় না। যেকারণে মানুষের জীবনে আজ নেতিবাচক প্রভাবে ঢেকে আছে। ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মীয় অনুশাসনহীন পৃথিবীতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা।

কিন্তু আমার মনে হলো প্রশ্নকারীর জন্য এই উত্তর যথেষ্ট না। এটা তাকে ঠিক বোঝাতে পারবে না। কিছুক্ষণ বাদে সমস্যাটা যে কোথায় তা বুঝতে পারলাম। (কখনো যদি আপনাকে ভুল প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হয়, তাহলে আপনিও তখন ভুল উত্তর দিতে বাধ্য হন।)

ইসলাম আপনার সাপেক্ষে প্রাসঙ্গিক হওয়ার প্রয়োজন নেই। এই সত্যটিকে তার প্রমাণের জন্য আপনার ব্যক্তিগত জীবনে সেটা কতটা কাজে লাগছে সেটার উপর নির্ভর করার দরকার নেই। এটা তার স্বভাবগুণেই প্রাসঙ্গিক। সত্যি কথা বলতে এটাই একমাত্র প্রাসঙ্গিক জিনিস।

আচ্ছা, আমরা যে-জীবনে চলছি সেখানে প্রাসঙ্গিকতার মানদণ্ড কী? পেশাদার খেলাধূলা কি প্রাসঙ্গিক? চালু সংস্কৃতি, মিউজিক, সিনেমা এগুলো কি প্রাসঙ্গিক? রাজনৈতিক বিতর্ক, বৈশ্বিক বিভিন্ন ঘটনা এগুলো কতটা প্রাসঙ্গিক? কেনই-বা প্রাসঙ্গিক?

এগুলো যদি হয় আমাদের প্রাসঙ্গিকতার মাপকাঠি, তাহলে ইসলামকে অবশ্যই অপ্রাসঙ্গিক মনে হবে। কেননা ওসব জিনিসের চেয়ে ইসলামের একটা বাস্তব অর্থ আছে। তাৎপর্য আছে। আছে সত্য ও স্থায়ী গুরুত্ব।

আমাদের সমস্যাটা এজন্য দ্বিমুখী। একদিকে প্রাসঙ্গিকতার মান ঠিক করা আছে ভুলভাবে। অন্যদিকে কোনো জিনিসের গুরুত্ব প্রথমে আমরা যাচাই করি ব্যক্তিগত উপযোগিতার উপর ভিত্তি করে। “যা দেখতে ভালো, শুনতে ভালো, লাগে ভালো”—এরকম আত্মমুখী চিন্তা থেকে আমরা দুনিয়ার উপর ফরমাশ খাটাই।

অন্য কথায় আমরা আমাদের অহং, আমাদের ইগো—এই “আমি”কে সব কিছুর কেন্দ্রে বসিয়েছি। শুধু এই প্রসঙ্গে “ইসলাম প্রাসঙ্গিক কি না” এই প্রশ্নের অর্থ হয়।

কেউ কিন্তু জিজ্ঞেস করে না জীববিজ্ঞান, নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, অর্থনীতি কিংবা বিজ্ঞান বা অ্যাকাডেমিক বিষয়আশয়ের অন্য যেকোনো কিছু প্রাসঙ্গিক কি না। ওসব ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিকতার প্রশ্ন তোলার কোনো মানে হয় না। কারণ ওগুলোর বেলায় ধরে নিই, যেহেতু সত্য নিয়ে ওগুলোর কাজকারবার, তাই কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অনুভূতির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

দেখুন, আপনার স্রষ্টা হলেন আল-হাক্ক। সর্বোচ্চ সত্য। সেজন্য আমাদের চিন্তাধারার কেন্দ্র হওয়া উচিত এই ইসলাম। যার মানে স্রষ্টার হাতে নিজেকে ছেড়ে দেওয়া। এরপর সেই কেন্দ্রের আলোকে বাকি সবকিছু (অ)প্রাসঙ্গিক কিনা তা বিচার করে দেখতে পারি।

Translated by: Masud Shorif

Daniel Haqiqatjou

View all posts

2 comments

Your email address will not be published. Required fields are marked *