বিকৃত ট্রান্স অধিকার প্রচারে, সাম্প্রতিককালে বড় ধরনের অগ্রগতি ঘটেছে। এর ফলে উদ্ভট সব পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে। একদা যেসব বিষয় ছিলো স্বাভাবিক ও চিরন্তন, এখন সেগুলোই ‘বিতর্কের বিষয়’ বলে বিবেচিত হচ্ছে। ফোর্বস-এর একটি নিবন্ধ থেকে:
Lambda Legal এবং আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU), নক্সভিলের ফারাগুট হাই স্কুলের ১৪ বছর বয়সী বালক লুক এসকুইভেলের পক্ষে আমেরিকার ডিসট্রিক্ট কোর্টে এই মর্মে একটি মামলা দায়ের করেছে যে, “লুক, একজন ট্রান্সজেন্ডার ছেলে। সে ফারাগুট হাই স্কুলের ছেলেদের গলফ টিমে খেলতে চায়, কিন্তু বর্তমানে প্রচলিত আইন তাকে বাধা দিচ্ছে। (এতে ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে তার অধিকার খর্ব হচ্ছে।)”
সাধারণ বিচার-বুদ্ধি দিয়ে ভেবে দেখুন, কিরূপ হাস্যকর ও বিকৃত চিন্তা! যারা একদম বেসিক বায়োলজি বুঝেন, তারাও জানেন যে পুরুষরা মহিলাদের তুলনায় অধিকতর পেশীবহুল, অধিকতর অ্যাথলেটিক, অধিকতর শারীরিক শক্তিসম্পন্ন, অধিক দ্রুত দৌড়াতে সক্ষম, অধিক ভারোত্তোলনে সক্ষম, অধিকতর আক্রমনাত্মকভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে সক্ষম… ইত্যাদি।
RELATED: ট্রান্সজেন্ডারিজম এর অসংগতি
মোটকথা, শারীরিকভাবে নারীদের তুলনায় পুরুষরা অধিক সক্ষম ও শক্তিশালী। এটি একটি বস্তুনিষ্ঠ সত্য, যা সমগ্র মানব ইতিহাস জুড়ে অপরিবর্তিত রয়েছে। তাহলে, এইসব দলসমূহ কোথা থেকে অস্তিত্বে আসলো? এসব অযৌক্তিক মতামতসমূহ, যা কিনা সম্পূর্ণরূপে কমন সেন্সের বিরুদ্ধে যায়, এই ‘আধুনিক’ যুগে এসে কিভাবে তা এত সমর্থন অর্জন করলো? রয়টার্সের একটি নিবন্ধে, ছেলেদের গলফ দলে খেলতে ট্রান্সজেন্ডার ছেলেকে বাধা দেওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে:
এ জাতীয় আইনের সমর্থকেরা বলছেন, এর লক্ষ্য হচ্ছে স্কুলের খেলাধূলায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। ট্রান্সজেন্ডার ছেলের শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী, মেয়েদের টিমে খেলাই তার জন্য অধিকতর যুক্তিযুক্ত বলে তারা মনে করছেন।
খেলাধূলায় এটা খুবই সাধারণ ঘটনা যে, একজন কোচ কিছু সুনির্দিষ্ট পূর্বশর্তের উপর ভিত্তি করে তার দল নির্বাচন করেন। এ পূর্বশর্তগুলোর অন্যতম হলো, প্রতিযোগীর শারীরিক স্বাস্থ্য ও সামর্থ্য। যেমন: তাদের নির্দিষ্ট ওজন থাকতে হবে, নির্দিষ্ট একটি উচ্চতা থাকতে হবে ইত্যাদি। তাহলে ট্রান্সজেন্ডারদের ক্ষেত্রে কেনো দ্বিমুখী আচরণ কেনো করতে হবে? কেন সামর্থ্য না থাকার পরেও, কেবলমাত্র একটি বিকৃত মানসিক সমস্যার উপর ভিত্তি করে তাদেরকে ভিন্ন দলে স্থান দিতে হবে?
“কিন্তু, যতক্ষণ পর্যন্ত না অন্য কেউ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, ততক্ষণ আপনি এতো উদ্বেগ দেখাচ্ছেন কেনো?” -এ ব্যাপারটা অর্থাৎ একজন পুরুষের নিজেকে মহিলা ভাবা, কিংবা একজন মহিলার নিজেকে পুরুষ ভাবা যে এক বিপজ্জনক চিন্তা, তা আরও ভালোভাবে বুঝার জন্য একটি দৃশ্যপট কল্পনা করা যাক:
RELATED: মৌলিক চাহিদা পূরণের বাসনা: আধুনিক সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের বিকৃতি
একজন মহিলার কথা কল্পনা করা যাক, যে নিজেকে পুরুষ মনে করে। এখন ধরা যাক, তার পেট ফুলে উঠতে শুরু করলো, এবং সে নিজের ভেতর বেশ কিছু শারীরিক পরিবর্তন অনুভব করলো। কিন্তু সে নিজেকে বুঝালো, এটা হলো স্রেফ স্থূলতার লক্ষণ, অর্থাৎ সে শারীরিকভাবে সামান্য মোটা হচ্ছে মাত্র। ক্রমাগত সতর্কতামূলক বার্তা অর্থাৎ তার শরীরে আসলেই যা ঘটছে তা বুঝার পরেও, সে সেটা উপেক্ষা করেই চললো। এভাবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরে, একদিন যখন তার ভয়ানক পেট ব্যাথা শুরু হলো, অবশেষে তখন সে হাসপাতালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। হাসপাতালে যেহেতু সে একজন ‘পুরুষ’ হিসেবে লিপিবদ্ধ করেছিলো, তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও আসল সমস্যাটা চিহ্নিত করলো না যে,
সে আসলে “গর্ভবতী” ছিলো। ফলে অচিরেই তার গর্ভপাত ঘটলো এবং সে একটি মৃত বাচ্চার জন্ম দিলো। কি ভয়ঙ্কর ও দুঃখজনক একটি দৃশ্যকল্প, তাই না? দুর্ভাগ্যবশত, এই দৃশ্যকল্পটি আমার মনগড়া কোন বানানো গল্প নয়। বরং USA Today পত্রিকা এই ঘটনাটি নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে এইভাবে:
লোকটি যখন তীব্র পেটব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছিলো, তখন কর্তব্যরত নার্স এটিকে জরুরী কোন সমস্যা বলে মনে করেনি। শুধুমাত্র ভেবেছিল যে, সে একজন স্থূলকায় মানুষ এবং হয়তো রক্তচাপের ঔষধ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু, বাস্তবে সে ছিল একজন ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ যার কিনা প্রসব বেদনা উঠেছিলো, এবং শেষ পর্যন্ত একটি মৃত বাচ্চা প্রসব করেছিলো।
বিকৃত মননের মিথ্যা কল্পনাকে তৃপ্ত করার জন্য, যখন স্পষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ সত্যকে নির্লজ্জভাবে প্রত্যাখান করা হয়, তখন এই হয় তার পরিণতি। “বস্তুনিষ্ঠতা”-র মানদন্ডে যখন এসব মিথ্যাকে মাপা হয়, তখন এগুলো বুদবুদের মতই হারিয়ে যায়, কিন্তু আসন্ন ভয়াবহ পরিণতির সম্ভাবনা, ঠিকই থেকে যায়।
সম্পর্কিত: ট্রান্সজেন্ডার তো পুরনো বিকৃতি, নিত্য নতুন বিকৃতির উদ্ভব হচ্ছে!
আল্লাহ্ প্রদত্ত নিয়ামতকে অস্বীকার করে দাজ্জালি মিডিয়ার মিথ্যা প্রোপাগান্ডা বিশ্বাস করে, যুবক-যুবতীরা ট্রান্সজেন্ডারিজম, সমকামীতা ইত্যাদি জঘন্য সব শয়তানি প্রথার হাতে নিজেদেরকে সঁপে দিচ্ছে।
এ ভয়াবহ অকৃতজ্ঞতা, এক ধরনের মানসিক ব্যাধি নয়কি? আল্লাহ তা’য়ালা দয়া করে আমাদেরকে জীবন দান করলেন, অগণিত প্রাচুর্য আর অনুগ্রহ দান করলেন, আর আমরা কিনা আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামতের শোকর আদায় না করে, উল্টো তিনি আমাদেরকে যেরূপে সৃষ্টি করেছেন, সেটাকে অস্বীকার করছি!
যাদের মনের মধ্যে এ ধরণের শয়তানি চিন্তার উদয় হয়, তাদের উচিত নীচের আয়াতটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা:
“তোমাদের উপর লড়াইয়ের বিধান দেয়া হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় এবং হতে পারে কোন বিষয় তোমরা অপছন্দ করছো অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে কোন বিষয় তোমরা পছন্দ করছো অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহ্ জানেন এবং তোমরা জানো না।” (2:216)

