সমকামিতার জোরালো প্রচারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ডিজনী (Disney): মুসলিম পিতামাতাদের যেসব বিষয় জানা উচিত।

    Date:

    Share post:

    শিশুরা যাতে এলজিবিটিকে ভাল এবং সুন্দর হিসাবে গ্রহণ করে নেয়, তা নিশ্চিত করার জন্য ডিজনির বিলিয়নিয়ার এক্সিকিউটিভরা আর কিছুতেই থামবে না:

    এক ডিজনি পরিচালক তাদের প্রযোজনাগুলোকে আরও “অন্তর্ভুক্তিমূলক” হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—যেহেতু এই বিনোদন জায়ান্ট সংখ্যালঘু এবং এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়গুলোকে জনসাধারনের কাছে উপস্থাপন করার কাজ করে, তাই চলতি বছরের শেষে তাদের নিয়মিত চরিত্রগুলোর অন্তত ৫০ শতাংশ চরিত্রকে এরকম সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্যমন্ডিত চিত্রে উপস্থাপন করা হবে।

    সমসাময়িক পাশ হওয়া একটি ফ্লোরিডা বিলের বিরুদ্ধে ডিজনী কোম্পানির কর্মচারীদের দ্বারা সংগঠিত বিক্ষোভের পরবর্তীতে ডিজনী এই ‘সাহসী’ সিদ্ধান্তটি নেয়।

    এই বিরল এবং প্রকাশ্য বিক্ষোভে প্রায় ৬০ জন ডিজনী কর্মচারী লস অ্যাঞ্জেলেসের বাহিরের একটি পার্কে জড়ো হয়েছিল। যেখানে তারা “এলজিবিটিকিউ বাচ্চাদের রক্ষা করো” লেখা প্রদর্শন করে। এবং স্লোগান দেয়-ডিজনী রয়েছে সমকামীদের পাশে। আমরা যাবো না চলে।

    তবে এই বিলে ঠিক কী এমন আছে – যা এই মহান প্রগতিশীলদের এমন অসন্তোষের কারন হয়েছে? এবং ডিজনী কর্পোরেশনকে আরও জোরালোভাবে এলজিবিটি প্রচারের জন্য প্ররোচিত করেছে?

    সমালোচকরা যদিও বিলটিকে “গে বিরোধী” বিল বলে থাকে। কিন্তু অফিশিয়ালি এটি “শিক্ষায় পিতামাতার অধিকার” বিল নামে পরিচিত। এই আইন বলে যে,“যৌন অভিমুখীতা বা লিঙ্গ পরিচয়ের বিষয়ে কোন পাঠ কিন্ডারগার্টেনে (তৃতীয় শ্রেনীতে) স্কুল-কর্মীদের দ্বারা পড়ানো যাবে না, যদি তা – [third grade]বয়স-উপযুক্ত উপায়ে শেখানো না হয়, বা শিক্ষার্থীদের শেখানোর পন্থা রাষ্ট্রের নির্ধারিত মান অনুযায়ী যদি উপযুক্ত না হয়।”

    তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের বয়স সাধারণত ৭ থেকে ৯ বছর হয়ে থাকে। সুতরাং, ডিজনীর মতে, ১০ বছরের কম বয়সী কিন্ডারগার্ডেন পড়ুয়াদেরও যৌন অভিযোজন এবং লিঙ্গ পরিচায়ক উপাদানের সাথে পরিচিত হওয়া দরকার

    এই প্রতিবাদটা আসলে এরকম শোনায় যে – “তাদের কতোবড় সাহস যে আমাদের শিশুদের যৌন সম্পর্কিত বিষয়ে জানাতে বাধা দেয়?!”

    ডিজনীর এক্ষেত্রে সমাধান হলো নিজেদের সিনেমা, টিভি অনুষ্ঠান আর অন্যান্য মিডিয়ায় এলজিবিটি বিষয়গুলোকে আরো বেশি করে মেশানো এবং প্রচার করা। তাদের কার্টুনগুলোতেও, যা লক্ষ লক্ষ শিশু দেখবে।

    সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি হলো জনমত নিয়ন্ত্রণ ও লিবারেলিজমের প্রচার-প্রসার করার বহুল-ব্যবহৃত একটি টুল। যা ডিজনীর মত অনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি করা হয়ে থাকে। এবং এটি এতো ব্যাপক হওয়ার কারণ হল এর কার্যকারিতা। চলচ্চিত্র এবং অনুষ্ঠানগুলো তাদের জনপ্রিয়তা এবং ‘টক অফ দ্য টাউন’ দিকটির কারণে দীর্ঘকাল ধরে ধারাবাহিকভাবে জনমতকে প্রভাবিত করে আসছে। কিন্তু এই শিল্পের এতো কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে আরো বৃহৎ একটি কারন আছে। এবং তা হল এর মাধ্যমগুলোর বৈশিষ্টসমূহ। চমৎকার পন্থায় গল্প বলার সাহায্যে, অভিনয় এবং বিভিন্ন চলচ্চিত্র কৌশল ব্যবহারের মাধ্যমে – দুনিয়ার যেকোনো বিষয় বা বয়ান সমর্থন করার জন্য একটি চলচ্চিত্র তৈরি করা যেতে পারে। সেই বর্ণনাটি বস্তুনিষ্ঠভাবে ঠিক বা ভুল যাই হোক না কেন।

    প্রাসঙ্গিক: মুসলিম অভিভাবক: আপনার সন্তানদের শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে নতুন অনলাইন প্রযুক্তি থেকে সাবধান থাকুন।

    এবং তা এলজিবিটি প্রচার-প্রসারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আবেগের সাথে খেলা করে, লিবেরালরা প্রায়ই বিশ্বাসী জনগণের চোখে তাদের অবস্থানকে ন্যায্যতা দেওয়ার ক্ষেত্রে যৌক্তিক তর্কের প্রয়োজনীয়তা এড়িয়ে যায়। লিবারেলিজমের প্রচার-পদ্ধতির এই মূল কৌশল, রাজনীতি এবং সংবাদমাধ্যম থেকে স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত, সর্বত্র ব্যবহৃত হয়।

    কিন্তু বিনোদন মিডিয়াই সম্ভবত সেই জায়গা, যেখানে এই কৌশলটি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। চলচিত্রে জনপ্রিয় অভিনেতাদের ব্যবহার, অথবা CGI এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট, নাটকীয় পরিবেশ, হৃদয়বিদারক সঙ্গীত, কান্নাকাটির গল্প ইত্যাদির মাধ্যমে চলচিত্রে যেভাবে আবেগী ছন্দে তাদের বার্তা প্রচার করা হয়, তাতে “যুক্তি” ব্যবহার করার আলাদা আর কোন প্রয়োজনীয়তা থাকে না। যুক্তির কথাতো বাদ, ঐতিহ্য, ধর্মীয় নীতি এমনকি মৌলিক জৈবিক তথ্যের কথাও ভুলে যান। এ সবকিছু ভুলে যান। এবং শুধু এই ‘অসহায়’ সমকামী বাচ্চাটার জন্য সহমর্মিতা বোধ করুন, কারন সে তার পরিবারের দ্বারা ‘নিপীড়িত’ আর সমাজের দ্বারা ‘বর্জিত’।

    দুর্ভাগ্যবশত, কিছু মুসলিম বাবা-মা কার্টুনকে কেবল নিরীহ অ্যানিমেশন বলে মনে করেন। তারা একটি অ্যানিমেটেড ব্যাকগ্রাউন্ডে কিছু অ্যানিমেটেড চরিত্রকে নড়াচড়া করতে এবং নাচতে দেখে মনে করেন, এসব কেবলই কার্টুন। একটা নিছক কার্টুন কিভাবে আমার বাচ্চাকে সরল পথ (সিরাতুল মুস্তাকিম) থেকে সরিয়ে দিতে পারে? কিভাবে একটি কার্টুন আমার সন্তানকে ইসলামবিরোধী বানিয়ে ফেলতে পারে? ফলে তারা নিজেদের বাচ্চাদের একরকম নজরদারিহীন ভাবে ছেড়ে দেন। এরপর বাচ্চারা ঘন্টার পর ঘন্টা এসব জিনিস একা একা দেখতে থাকে।

    ব্যাপারটি হল এই কার্টুন এবং অ্যানিমেশনগুলো শিশুদের উপর গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক প্রভাব রাখার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এসবের মধ্যে এমনসব ইঙ্গিত এবং সংকেত ডিজাইন করা হয়েছে, যা শিশুমনে নির্দিষ্ট ছাপ রেখে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। আমাদের পাঠকদের আধুনিক মিডিয়াতে শয়তানী প্রতীকসমূহের চলমান প্রদর্শনীর সাথে পরিচিত থাকার কথা। তো যারা এর সম্পর্কে পরিচিত না তাদের উপর কি এর কোন প্রভাব নেই? ছোটবেলায় শোনা একটি গল্প মনে পড়ে গেল।

    একটি শিশু তার বাবাকে জিজ্ঞেস করে যে, কেন তারা আরবি না বুঝলেও কোরআন তেলাওয়াত করে। উত্তর দেয়ার আগে বাবা তার ছেলেকে একটি নোংরা বালতি দেন এবং একটি কুয়া থেকে পানি আনতে পাঠান। ছেলে কাজটি করতে বের হয়। যখন সে কূপ থেকে ঝুড়িটি তুলে, সে লক্ষ্য করে যে তিনি বাড়ি ফিরে আসার আগেই বালতির ফুটো দিয়ে সমস্ত পানি বেরিয়ে গেছে। তাই বাবা তাকে আবার বাইরে পাঠান। এবং প্রক্রিয়াটির কয়েকবার পুনরাবৃত্তি হয়। অবশেষে, ছেলেটি তার বাবাকে বলে যে, বালতি কখনো পূর্ণ হবে না। তখন বাবা বালতিটির দিকে নির্দেশ করেন। এবং ছেলে লক্ষ্য করে যে, এটি একেবারে পরিষ্কার হয়ে গেছে। তিনি তখন ব্যাখ্যা করেন যে, এই কারণেই তারা কোরআন তেলাওয়াত করে। যদিও তারা আরবি বুঝতে পারে না, কিন্তু তিলাওয়াত নিজেই আত্মার উপর একটি পরিষ্কারকারী প্রভাব ফেলে।

    এখন, এই গল্পের মূল বিষয় এই নয় যে, আমাদের আরবি ভাষা শেখা বা কোরআন বোঝার চেষ্টা করা উচিত নয়। স্পষ্টতই সকল মুসলমানের কোরআন বোঝার নিয়তে আরবি শেখার চেষ্টা করা উচিত। বরং, বিষয়টা হল যে আমাদের আত্মার উপর কোরআনের ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে এমনকি আরবি না জানা মুসলমানদের উপরও, যারা আয়াতগুলি শুনছে/তিলাওয়াত করছে অথচ অর্থ বুঝতে পারে না।

    একইভাবে, মিডিয়ায় নানা কিছু দেখার এবং এর উপকরণ ব্যবহার করার অনেক নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে, তাদের মধ্যে নিহিত খারাপ বিষয়গুলোর কারনে। এবং বিশেষ করে যখন ডিজনীর মতো অ্যানিমেশন জায়ান্টদের কথা বলা হয়, যাদের কার্টুনগুলি অত্যধিক মনের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলা গান এবং ছবিতে পূর্ণ।

    আপনি যদি কোরআন শোনার ইতিবাচক প্রভাব সম্বন্ধে জানেন তবে এই শয়তানী গান-বাজনা শোনার নেতিবাচক প্রভাবটা কল্পনা করুন।

    প্রাসঙ্গিক: নার্সারি ছড়াগুলোর মহামারী: ঝুঁকিতে তরুণ মুসলিমদের মন।

    আর এর উপরে, এই অ্যানিমেশনগুলো মূলত শিশুরা দেখে, যাদের মস্তিষ্ক এখনও পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। তারা এই কার্টুনগুলো তখন দেখে, যখন তাদের আচরণগত ভিত্তি তৈরি হচ্ছে, যখন তাদের ব্রেইনের মানসিকতার অংশগুলি তৈরি হচ্ছে। এমন পর্যায়ে এই ধরনের বিষয়বস্তু গ্রহণ করা গুরুতরভাবে ক্ষতিকর। বিশেষ করে মুসলিম শিশুদের জন্য, যাদের এ সময়ে ইসলামের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, মুসলমানদের ইতিহাস সম্পর্কে শেখা, নবী ও সাহাবীদের গল্প শোনা ইত্যাদি জরুরি। কিন্তু এর পরিবর্তে, “অবহেলাকারী” পিতামাতারা তাদের শিশুদের ডিজনী, পিক্সার, ড্রিমওয়ার্কস ইত্যাদির এসমস্ত অনিরাপদ শয়তানি এলজিবিটি প্রচারকারী কার্টুন কোনোপ্রকার নজরদারী ছাড়াই একা একা দেখতে ফেলে রাখেন।

    এখানে উল্লেখ্য শেষ বিষয়টি হল যে এলজিবিটি বিষয়বস্তু দ্বারা বাচ্চাদের টার্গেট করা শুধুমাত্র এই গোষ্ঠীগুলির অসাধু এজেন্ডাগুলো পূরণ করে না, বরং এটা তাদের জন্য বেশ লাভজনকও বটে:

    একজন ডিজনী এক্সিকিউটিভ স্বীকার করেছেন যে, তাদের কোম্পানিটি বৈচিত্র্য বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কারণ, এটি ব্যবসায়ীকভাবে লাভজনক। তাদের সিইও এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এই মর্মে যে “আমার যতোটুকু আপনাদের মিত্র হওয়া উচিত ছিলো, আমি ততোটুকু হতে পারিনি”।

    তাদের বিনোদন বিভাগের প্রধান, ক্যারি বার্ক, বলেছেন যে – তার ছেলে তাকে বলেছিল: ‘মা, Gen-Z (বর্তমান প্রজন্ম) অন্যান্য প্রজন্মের তুলনায় ৩০-৪০ শতাংশ বেশি সমকামী, তাই ডিজনীর পক্ষে এটি গ্রহন করে নেয়াই ভালো।’

    কিন্তু এই পরিসংখ্যান কি সঠিক? তরুণ প্রজন্মের মধ্যে “Queerness” কি এতটাই সাধারণ, নাকি এটি একটি মিথ্যা পরিসংখ্যান, যার উদ্দেশ্য স্রেফ আমাদের মনে করানো যে এই জোয়ার থামানোর উপায় নেই? “নিজের যৌন পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে যাওয়া” সত্যিই কি এতোটাই লাভজনক? যেসমস্ত রাজস্ব ডিজনী এমন লোকেদের থেকে হারায় যারা এলজিবিটিদের ব্যাপারে বিরক্ত (কারন এরা নিজেদের স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে নিতে সবাইকে জোর করে বাধ্য করছে) সেসবের ব্যাপারে কি? বা যেসমস্ত রক্ষণশীল এবং ধার্মিক পিতামাতারা এখন ডিজনীকে বয়কট করছেন তাদের ব্যাপারে?

    যাই হোক না কেন, মুসলিম পিতামাতাদের তাদের সন্তানদের অবাধে এই ধরনের জিনিস দেখার অনুমতি দেওয়া বন্ধ করতে হবে, যা তাদের আত্মার ক্ষতি করে। এবং এর পরিবর্তে ইসলামিক জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে প্ররোচিত এবং উৎসাহিত করতে হবে। মুসলিম অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের ইসলাম সম্পর্কে শেখাতে এবং তাদের সাথে ভালোভাবে কানেক্ট করতে, অনেক ধরণের আইডিয়া আর নতুন নতুন খেলাধুলা উদ্ভাবন করতে পারেন।

    প্রাসঙ্গিক: মুসলিম প্যারেন্টিং: আপনার সন্তানের কোন জ্ঞানকে আত্নস্থ করার ক্ষমতা।

    spot_img
    Crypto Cranium
    Crypto Cranium
    Technology and futurism specialist

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    Newsletter

    If MuslimSkeptic gets banned from ALL social media, we'll need your email to stay in touch. Sign up NOW!

    This field is hidden when viewing the form

    Next Steps: Sync an Email Add-On

    To get the most out of your form, we suggest that you sync this form with an email add-on. To learn more about your email add-on options, visit the following page (https://www.gravityforms.com/the-8-best-email-plugins-for-wordpress-in-2020/). Important: Delete this tip before you publish the form.
    Name(Required)

    spot_img

    Popular

    More like this
    Related

    নেটফ্লিক্সের অশুভ উদ্দেশ্য এবং ভয়াবহ আর্থিক পরিণাম

    হলিউড ইন্ডাস্ট্রি মূলত লিবারেল প্রপাগান্ডার এক আখড়া যা শিশুকিশোর...

    “বিয়ের জন্য যতটা প্রস্তুতি, তালাকের জন্যও সমান প্রস্তুতি নিয়ে রাখো” – উপদেশটা ভালো?

    সেদিন হুট করে একটা টুইট চোখে পড়ল আমার, যেখানে...

    মাতৃত্বঃ শিশুদের ইসলাম শিক্ষা দান এবং ইসলামী চেতনায় বিকাশ সাধন

    গতকাল বিকালে কয়েক ঘন্টা আমি খুব ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে...